জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন প্রয়োজন ছিল সন্তান ও স্বজনদের একটু স্নেহের আশ্রয়, পরম যত্ন আর নিয়মিত চিকিৎসা-ঠিক তখনই শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৭৫ বছর বয়সী জেলেকা বেগমের ঠাঁই হয়েছে জঙ্গলময় এক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের এই বৃদ্ধা এখন ক্ষুধা আর চরম নিরাপত্তাহীনতায় খোলা আকাশের নিচে দিন অতিবাহিত করছেন।
শরীরে অপরিচ্ছন্ন ময়লা কাপড়, মাথার নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা আর চারপাশের বিষ্ঠা ও পোকামাকড়ের মধ্যেই পড়ে আছেন তিনি। রাতে শিয়াল-কুকুর এবং বিষধর সাপের চলাচলের কারণে স্থানটি জীবননাশের হুমকি হলেও এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বাধ্য হয়ে দিন-রাত কাটছে তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর রাতে বড় মেয়ে ময়না বেগম তাঁকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে জঙ্গলে ফেলে আসেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ময়না বেগমের দাবি, তাঁর মা নিজেই ঘর ছেড়ে বাইরে চলে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বড় মেয়ের আশ্রয়ে বসবাস করা এই বৃদ্ধার নিজস্ব কোনো ছেলে নেই, রয়েছেন তিন মেয়ে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধা মায়ের সার্বিক দেখাশোনার সুবিধার্থে প্রবাসে থাকা অন্য দুই মেয়ে টাকা পাঠিয়ে বড় মেয়ের বাড়িতে একটি পাকা ঘরও নির্মাণ করিয়েছিলেন। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, সেই ঘরে ঠাঁই তো মিলেইনি; বরং প্রায় সময়ই তাঁকে না খাইয়ে রাখা হতো এবং মাঝে মাঝে শুধু লবণ-ভাত ও অপরিচ্ছন্ন পাত্রে খাবার খেতে দেওয়া হতো।
অস্পষ্ট কণ্ঠে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বৃদ্ধা জেলেকা বেগম শারীরিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। প্রতিবেশীরা অনতিবিলম্বে এই বৃদ্ধার জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আহার এবং জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্তের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তথ্যটি তিনি অবগত হয়েছেন এবং বৃদ্ধার নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

