মাদকবিরোধী অভিযানে হাতে অস্ত্র থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা আলোচনার স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, অভিযানে তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সেটি দিয়ে কাউকে ভয় দেখানো কিংবা কোনো গুলিবর্ষণ করা হয়নি। মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে জোরদার সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা নানা প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী তাঁর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, তাঁর সংসদীয় আসনের অন্তর্গত গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের অবাধ কারবার চলছে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার তাঁর কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেছেন। কিন্তু জনবল ও যানবাহনের সংকটসহ নানা অজুহাতে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। পূর্বে উক্ত এলাকায় অভিযানে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অন্যদিকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে আক্রমণ কিংবা গুলি করার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার্থে তাঁর কাছে বৈধ অস্ত্র ছিল।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, “আমি তো আর গুলি করিনি, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাইনি। আমরা কেবল অভিযান পরিচালনা করেছি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।” এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

