প্রধান খবর

মন্দিরে পূজা, মসজিদে আজান, সম্প্রীতির এই বাংলাদেশকে ভালোবাসি

শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে তিনি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল ও উৎসব পালন নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহল যেন মণ্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। এছাড়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দেশ। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উৎসব উদযাপনে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা করছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, “এখানে দেখেছি, একই সময়ে মন্দিরে পূজা চলছে, আবার মসজিদে আজান দিয়ে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করছেন। এই মনোভঙ্গি নিয়েই আমরা দেশকে ভালোবেসে যাব।” এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ৪৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২৭টি, পীরগঞ্জে ১২০টি, বালিয়াডাঙ্গীতে ৬৩টি, রানীশংকৈলে ৫৫টি, হরিপুরে ২০টি, রুহিয়ায় ২৮টি এবং ভুল্লীতে ৬৪টি মণ্ডপ রয়েছে।

পরিদর্শনকালে ডিআইজির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাজাহান আলী এবং ট্রাফিক শাখার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. হাসান আসকরীসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *