ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্তের দায় থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) রো খান্না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা এবং এক মার্কিন আলোকচিত্র সাংবাদিকের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সাহায্য অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একাধিক বার্তায় কংগ্রেসম্যান রো খান্না বিখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিনের ওপর হওয়া নৃশংস হামলার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা লেভিনকে চড়াও হয়ে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে দেয় এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে লাথি মারতে থাকে। খান্নার অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সম্পূর্ণ বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত এই ধরনের সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বন্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কংগ্রেসম্যান খান্না স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে সমস্ত আমেরিকান সহায়তা ও অস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা ইসরায়েলের কাছে পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে সংঘাত ও সহিংসতার পেছনে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চাইলে কেবল মুখের তীব্র নিন্দাই যথেষ্ট নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মূল নীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে খান্না জানান, গত জুলাই মাসে পশ্চিম তীরের ‘খিরবেত জানুতা’ এলাকায় তিনি এবং ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক আলোকচিত্রী ইসরায়েলি চরমপন্থীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই ঘটনার কথা উপস্থাপন করায় নেতানিয়াহু তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে দাবি করেছিলেন। এর জবাবে নেতানিয়াহুকে উল্টো নিশানা করে খান্না বলেন, “নেতানিয়াহু, আপনিই মূল মিথ্যাবাদী; নির্দোষ ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্ত লেগে রয়েছে আপনার হাতে।”
মার্কিন কংগ্রেসম্যানের এমন চরম আক্রমণাত্মক বক্তব্য অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান তাণ্ডব এবং তেল আবিবকে ওয়াশিংটনের ঢালাও সামরিক সহায়তার নীতি নিয়ে মার্কিন রাজনীতির ভেতরে চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

