প্রধান খবর

ইরানে আধাসামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সরকারবিরোধী উত্তেজনা ও সহিংসতা নতুন মাত্রা রূপ নিয়েছে। এবার ওই অঞ্চলের মেহরেস্তান শহরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর এক প্রভাবশালী নারী কমান্ডারকে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে যে, নিহত ওই কর্মকর্তার নাম আফসানেহ আঘিলা। তিনি স্থানীয় নারী বাসিজ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহরেস্তান শহরে নিজ বাসভবনের সামনেই আততায়ীদের সরাসরি হামলার শিকার হন আফসানেহ আঘিলা। তবে কোন গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, বাসিজ মূলত আইআরজিসির একটি অনুগত স্বেচ্ছাসেবী শাখা, যা ইরানে যেকোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করে থাকে। এই ইউনিটের নারী সদস্যরা সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র পরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন।

মেহরেস্তানে নারী কমান্ডার হত্যার দিনই পৃথক এক হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় বন্দুকধারীরা। এতে মোহাম্মদ-আলি শাহরিয়ারি নামে এক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পৃথক দুটি ঘটনার পেছনে কোনো প্রত্যক্ষ মেলবন্ধন বা একই চক্র জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিতর্কিত সুন্নি জিহাদি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘জৈশ আল-আদল’ দাবি করেছে যে, তাফতান, কুরিন এবং কৌশলগত চাবাহার বন্দর এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের অন্তত তিন দফায় তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। মূলত সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশটিতে দারিদ্র্যপীড়িত সুন্নি বেলুচ জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেকারত্ব ও চরম উন্নয়নবঞ্চনাকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বর থেকে এই অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান সরকার এই ধরনের সহিংস চরমপন্থার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে, যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে, অন্যদিকে কঠোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বেছে নিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘জৈশ আল-আদল’-এর সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক বেলুচ যুবকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *