ইরানের প্রতিরোধ আন্দোলন ও জনসমর্থন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটির নারী ও কিশোরীরা একেবারে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং নার্সদের পেশাগত মর্যাদা ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বাণীতে এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতনি ও ইমাম আলীর কন্যা হজরত জয়নাবের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ইরানে প্রতি বছর জাতীয় নার্স দিবস উদ্যাপিত হয়।
বাণীতে ইরানের নারী ও কিশোরীদের সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের এই নাজুক ও বিশেষ মুহূর্তে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন জনপরিসরে তাঁদের সক্রিয় ও সুসংগঠিত উপস্থিতি জনগণের মাঝে প্রতিরোধ ও দৃঢ় সমর্থন গড়ে তুলতে বড় ধরনের শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “আজ ইসলামী ইরানের জয়নাবের মহতী আদর্শে অনুপ্রাণিত নারীরা সর্বক্ষেত্রে, বিশেষ করে শহর ও গ্রামের রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে কঠিন যুদ্ধের রূপরেখায় বাস্তব প্রতিরোধ ও সমর্থনের সামনের সারিতে রয়েছেন।” খামেনির মতে, ইরানি জনগণের ওপর অন্যায় কষ্ট, যন্ত্রণা ও দমন-পীড়ন চাপিয়ে দিতে চাওয়া বিশ্বশক্তিগুলো এই অদম্য শক্তির সংঘাতের মুখে নিজেদের বড়ই অসহায় মনে করে।
নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁদের ‘করুণার ফেরেশতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, রোগীকে কেবল ওষুধ বা শারীরিক চিকিৎসা দেওয়াই নার্সদের কাজ নয়; বরং রোগীর মানসিক যন্ত্রণা লাঘব, মনে আশা জাগানো এবং হতাশা দূর করতে তাঁদের ভূমিকা অতুলনীয়। শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ত্রাণকর্মীদের মতো নার্সদের পেশাও জীবন ও আশার অনন্য উৎস।
পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বিভিন্ন জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের পেশাগত দক্ষতা, উদ্দীপনা ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ও ওষুধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধের মোকাবিলায় নার্সিং পেশাকে আরও বেশি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো জরুরি। এছাড়া বিভিন্ন সংঘাতে নিহত বীর নার্সদের অবদান স্মরণ করে আহত স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

