গভীর রাতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত এসব ভূকম্পনের প্রভাবে শনিবার রাতে সারা দেশে সৃষ্টি হয় তীব্র আতঙ্ক। মূলত রাত সোয়া ১২টা থেকে শুরু করে দেড়টার মধ্যে এই তিনটি ধাক্কা অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি)।
আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইএমএসসির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূকম্পনটি রেকর্ড করা হয়। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা কেন্দ্রস্থল হওয়ায় রিখটার স্কেলে ৪.৯ মাত্রার এই কম্পন টেকনাফ, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম বিভাগে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
প্রথম ঘটনার ঠিক এক মিনিট পর অর্থাৎ রাত ১২টা ১৩ মিনিটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মিজোরামের লুংলেই এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ৫.০ মাত্রার এই অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী কম্পনের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। মধ্যরাতে হঠাৎ ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় আতঙ্কে অনেকেই খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।
পরবর্তীকালে রাত ১টা ২৭ মিনিটে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা কেন্দ্রিক রিখটার স্কেলে ৩.৮ মাত্রার তৃতীয় ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। অপেক্ষাকৃত মৃদু মাত্রার হলেও এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মৃদু কম্পন টের পাওয়া যায়।
পরপর তিনটি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও দেশের উপকূলীয় ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রাতভর সাধারণ মানুষের মাঝে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

