নির্মমভাবে হত্যার পর খণ্ডবিখণ্ড করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আদালতে। ফ্ল্যাট বিক্রির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চরম আক্রোশ ও অর্থলোভ থেকেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযোগ তুলেছে সরকারপক্ষ।
বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে উপস্থিত প্রধান তিন অভিযুক্ত—অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কাও কুয়াং, সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কুয়াং এবং সাবেক দেবর অ্যান্থনি কুয়াং আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। আট সপ্তাহব্যাপী চলার সম্ভাবনা থাকা এই বিচারে সরকারপক্ষের কৌঁসুলিরা আসামিদের বিরুদ্ধে আদ্যোপান্ত প্রমাণ উপস্থাপনা করছেন।
আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালে কাডুড়িয়া আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ কোটি হংকং ডলারে কেনা ফ্ল্যাটটি ২০২২ সালে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাবি। স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে এটি সাবেক শ্বশুরের নামে নিবন্ধিত হলেও মূলত সন্তানের স্বার্থেই অ্যাবি পুরো পরিবারকে সেখানে থাকতে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্ল্যাট হাতছাড়া হওয়ার ক্ষোভে কাও কুয়াং ও তার দুই ছেলে মিলে অ্যাবিকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করেন, যাতে সম্পত্তির মালিকানা ধরে রাখা যায়।
মামলার বিবরণে আদালতকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন ২৮ বছর বয়সী এই ফ্যাশন আইকন। তিন দিন পর তাই পো এলাকার একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহাংশের সন্ধান মেলে, যা কার্যত একটি কসাইখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত, ফ্রিজে রাখা খণ্ডিত পা এবং সবজিসহ সুপের পাত্রে সেদ্ধ করা অ্যাবির মাথার খুলি উদ্ধার করে। দেয়াল যেন রক্তে না ভেজে, সে জন্য সেখানে প্লাস্টিক টানানো ছিল এবং অঙ্গচ্ছেদ করার সময় আসামিরা ফেস শিল্ড ও রেইনকোট ব্যবহার করেছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে ধনাঢ্য পরিবার থেকে উঠে আসা অ্যাবি চোই বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্বামীর পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা জুগিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মডেল মৃত্যুর কিছুদিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে অংশ নিয়েছিলেন। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আগামী শুক্রবার প্রসিকিউশনের পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

