শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তেজনা। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রাথমিকভাবে গত সেপ্টেম্বরে প্যারিস অঞ্চলে আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও খুব দ্রুত তা দেশটির অন্যান্য বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড তৈরি করে বিক্ষোভ প্রদেশন করেন। কোথাও কোথাও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টিতে বিক্ষোভ ও শিক্ষাকার্যক্রমে তীব্র বিঘ্ন ঘটেছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে জানান, আগের দিনের তুলনায় বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমলেও শ্রেণিকক্ষের অচলাবস্থা কাটেনি। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এক দিনেই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যাদের ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ হলো-দীর্ঘ সময় ধরে টানা ক্লাস, চরম গরমের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত বাতাসের অভাব, তীব্র শিক্ষক সংকট এবং সময়মতো পাঠ্যবই না পাওয়া। প্যারিসের এক শিক্ষার্থী জানায়, পুরো এক বছর ধরে তাদের কোনো বিজ্ঞান শিক্ষকই ছিলেন না, যা শিক্ষার গুণগত মানকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
আন্দোলন চলাকালে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টের কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয় এবং প্যারিসের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেলফোর্ট শহরে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসহ ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। শতাধিক উচ্চবিদ্যালয় মারাত্মক অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বর্তমানে এই আন্দোলন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং অতি-সহিংস কিছু গোষ্ঠী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। এর জবাবে বিরোধী নেতারা বলেছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আশ্রয় নিচ্ছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভে সন্তানের কারণে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হলে অভিভাবকদের কাছ থেকেই সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

