সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। সম্প্রতি মাসিয়াফ সেতুর কাছে মর্মান্তিক এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হোমস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাসটি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম হোমসের গ্রামাঞ্চলীয় মাসিয়াফ সেতু অতিক্রম করছিল। সে সময় হঠাৎ অজ্ঞাত সশস্ত্র বন্দুকধারীরা বাসটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হোমস গ্র্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক মান মাহমুদ ফাহদ জানান, তাদের হাসপাতালে আনা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই পৌঁছানোর আগে মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মাথা ও বুকে একাধিক গুরুতর গুলির আঘাত ছিল।
হামলার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে হোমস অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাসেম মোহাম্মদ শাবান জানান, এই হামলা মূলত হোমসের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার এক অপচেষ্টা। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সিরীয় কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এর মধ্যে দামেস্কসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিরতিতে বিস্ফোরণ ও হামলার মতো সংঘাতময় ঘটনা ঘটে চলেছে।

