মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি মাহিনকে জামিন

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিনকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়েরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার নথি ও নিহতের স্বজনদের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে ঘিরে ধরে একদল দুর্বৃত্ত। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি ইট-পাথর ও কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমনকি মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা লাশের ওপর উঠে উল্লাস করে বলে আদালতকে জানিয়েছেন নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম।

ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ মে পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১২ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

মামলায় অভিযুক্ত ২১ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি মাহিনসহ বর্তমানে ১০ জন কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন। নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে এবং মিটফোর্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামির জামিনের খবরে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *