সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রোজা মোবারক সংলগ্ন মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ‘তাইবাহ’ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল)। সংগঠনটি এই ঘটনাকে পুরো মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতির ওপর এক ‘বিপজ্জনক উসকানি’ ও পবিত্রতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। ড্রোন হামলায় কেন্দ্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও বিকল্প উপায়ে মদিনা ও মসজিদে নববীর মূল বিদ্যুৎ গ্রিড সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সানা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন দাবি করেছে।
এক বিবৃতিতে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলকরিম আল-ঈসা বলেন, মদিনার বেসামরিক ও পবিত্র সেবা প্রদানকারী স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক আইন, ইসলামি মূল্যবোধ ও মৌলিক মানবিক নীতির স্পষ্ট পরিপন্থী। একইসাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও তুরস্কসহ বহু মুসলিম দেশ এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে সীমান্তজুড়ে হামলা অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোর সংলগ্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে সংঘটিত এসব ঘটনা আঞ্চলিক সংবেদনশীলতা ও উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

