জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। প্যানেলের অন্য বিচারক সদস্যরা হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিদের সকলেই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁদের অবর্তমানেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিচারকাজ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অভিযোগ গঠন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের টানা ৯ কার্যদিবসের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৭ আগস্ট আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা প্রদান, রাজপথে সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান, বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সশস্ত্র আক্রমণের পরিকল্পনা এবং দমন-পীড়ন চালাতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

