নিজের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম—এমনটাই জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে নিজের ছোট বোন শেখ রেহানা কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত নন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
দীর্ঘ কথোপকথনে তিনি বাংলাদেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংকট, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ বহুবিধ ইস্যুতে খোলামেলা মন্তব্য করেন। আগামী ডিসেম্বর বিজয়ের মাসেই দেশে ফেরার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। তবে জীবনঝুঁকি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেই তিনি দেশে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিগত ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে তিনি জানান, সেদিন দেশ ছাড়ার আগাম কোনো পরিকল্পনা ছিল না; পরিস্থিতির চাপে বিমানে ওঠার পরই তিনি জানতে পারেন তাঁকে ভারতের অভিমুখে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী ও চরমপন্থি শক্তির উথান ঘটছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা সতর্ক করেন যে, এই পরিস্থিতির প্রভাব কেবল বাংলাদেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বর্তমান সরকারের অধীনে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে তিনি বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের তীব্র সমালোচনা করেন।
নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য সরকারি ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁর পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন এবং যিনি নিজে এ দেশের মাটিতে রাজনীতি করে বড় হয়েছেন, তাঁকে নিজের জন্মভূমিতে ফিরতে কেন বাধা দেওয়া হবে? নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি রয়েছে জেনেও দেশের সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে সাক্ষাৎকারটিতে পুনর্ব্যক্ত করেন।

