গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান এবং মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬। এছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের নতুন আইনি সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস করা হয়।
নতুন পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য মারাত্মক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বা সরকারি কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তথ্য গোপন করাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ অপরাধের সাধারণ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে কিংবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা এবং ১২০ দিনের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে একটি চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এতে নারী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে তদন্তের আগে বিশেষ বিজ্ঞপ্তির নিয়ম রাখায় বিরোধীরা এর সমালোচনা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা আইনের দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন।
একই দিনে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিলে দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে পিতামাতা বা নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও দাতা আমৃত্যু তা ভোগ করার সুযোগ পাবেন, যা সব ধর্মের অনুসারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বিরোধীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই সংশোধনী সাধারণ দান বা মুসলিম পারিবারিক আইনের হেবা ব্যবস্থার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

