প্রধান খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মই দিয়ে ছাদে উঠতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: প্রাণ গেল৩ জনের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে তিনজনই মারা যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে এসেছে। সদর উপজেলার বারোঘোরিয়া ইউনিয়নের বাদুড়তলা এলাকায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এই হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- হাসিনা বেগম (৪৮), আশা খাতুন (২৬) এবং ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মিম আক্তার। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিম আক্তার কয়েক দিন আগে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, সকালে একটি লোহার মই বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠছিলেন আশা খাতুন। ছাদের পাশ দিয়েই চলে গেছে অরক্ষিত ও খোলা বৈদ্যুতিক তার। অসাবধানতাবশত মইটি ওই সচল বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসামাত্রই মারাত্মকভাবে বিদ্যুতায়িত হন আশা খাতুন। তার চিৎকার ও বিপদ দেখে তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত ছুটে যান ফুফু হাসিনা বেগম। কিন্তু স্পর্শ করার সাথে সাথে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। এ সময় পাশে থাকা কিশোরী মিম আক্তারও তাদের বাঁচাতে কিংবা দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টদের সংস্পর্শে চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যে একে একে তিনজনই ঘটনাস্থলে ঢলে পড়েন এবং তাদের করুণ মৃত্যু হয়।

একটি সামান্য অসতর্কতা কীভাবে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একটি পরিবারের তিনটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই দুর্ঘটনাটি তারই এক নির্মম উদাহরণ। স্বজনদের আকুল কান্না ও আহাজারিতে বাদুড়তলা এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত প্রতিবেশীরা দ্রুত স্থানীয় থানা পুলিশে খবর দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, খবর পেয়েই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বারোঘোরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এলাকায় এটি এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক ঘটনা। পুরো ইউনিয়নবাসী এই শোক সামলে উঠতে পারছে না। ভবিষ্যতে যেন অসতর্কতাবশত আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সতর্কতা নিয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *