প্রধান খবর

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভয়াবহ সহিংসতা: একদিনেই গ্রেপ্তার ২৪০০

জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা ফ্রান্স। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অভূতপূর্ব এই সহিংসতায় একদিনেই প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য ও জেন্ডার্ম গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিয়ন্ত্রহীন এই সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ মানুষের বৈধ আন্দোলন আর সুযোগসন্ধানী দুর্বৃত্তদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। সহিংসতা ও লুটপাটে লিপ্ত চরমপন্থী দল ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে দেশে কোনো জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানী প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিক স্কয়ার থেকে শুরু করে লিয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলের জবাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘাত চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া লিমোজেস শহরের ১৯ শতকের ঐতিহ্যবাহী সিটি হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে চরম শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সামনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থাকায় এই সংঘাত ও অস্থিরতা চরম রাজনৈতিক মাত্রাও লাভ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করছে। উগ্র ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ পার্টির নেত্রী মারিন ল্য পেন ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জর্ডান বারদেলা সরকারের সামগ্রিক নীতিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, হার্ড-লেফট দলের শীর্ষনেতা জঁ-লুক মেলেনশঁ বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকটজনক পরিস্থিতির জন্য অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন।
সংঘর্ষের কারণে বহুলোক গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এর মধ্যে সাঁ-তেতিয়েনে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাত বোমায় মারাত্মক

ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুলহাউসে সংঘর্ষ চলাকালে এক কিশোরী চোখ হারায়। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের দাবি প্রবল হয়ে উঠলে ম্যাক্রোঁ গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোসহ সার্বিক নিরাপত্তায় ঘাটতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *