আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং ভোটারদের আগাম ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে দেশজুড়ে জোরালোভাবে শুরু হয়েছে পরিচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) সমাবেশ। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা যখন কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখে, ঠিক সে সময়েই এই বৃহত্তর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলো। বর্তমান মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটি এ ধরনের চতুর্থ বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ (No Kings: Vote Early)। এবারের আয়োজনের মূল কৌশল কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের নীতির সরাসরি বিরোধিতা করাই নয়; বরং আসন্ন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী নির্বাচনে সাধারণ মার্কিনিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উজ্জীবিত করা।
আন্দোলনের মূল আয়োজকরা এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি মূলত নির্দলীয় ভোটারদের অংশগ্রহণের একটি বৃহৎ প্রয়াস। প্রতিটি যোগ্য ভোটার যেন ভোটদানের সমস্ত বিকল্প ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে এবং নিজের গণতান্ত্রিক মতামত যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ পায়, সেজন্যই এই সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি পৃথক কর্মসূচি ও ইভেন্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে, কারণ দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলে ভোটাররা নির্ধারিত দিনের বেশ কিছুদিন আগেই আগাম ভোট দেওয়ার সুবিধা পেয়ে থাকেন।
তবে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাকযোগে ভোটদান বা মেইল-ইন ব্যালটের তীব্র বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই চর্চা সীমিত বা কঠোর করার নানাবিধ প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচন ও ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ সীমিত করা হলে তা পরোক্ষভাবে রিপাবলিকানদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে; কারণ প্রথাগতভাবে ডেমোক্র্যাট সমর্থক ও ভোটাররাই এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক বেশি হারে ভোট দিয়ে থাকেন। বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে বর্তমান প্রশাসন নির্বাচন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, প্রতিনিধি পরিষদের বা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ফিরে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

