সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম আনন্দময় শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী পালিত হচ্ছে। আজ সোমবার সকালে উৎসবের প্রধান আকর্ষণে চণ্ডীপাঠ, অঞ্জলি ও নানা বর্ণাঢ্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহামায়া দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছেন হাজারো ভক্ত। ঢাকা ও সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে।
মহাষ্টমীর পূজার অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অরজঃস্বলা ও সুলক্ষণা কুমারীকে সাড়ম্বরে সাজিয়ে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। সনাতন বিশ্বাসের ভিত্তি হলো- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি নারীমূর্তির ভেতরেই বিরাজ করছে পরমেশ্বরী মহামায়ার মূল শক্তি। পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, দেবী চণ্ডী কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করে দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন। সেই শুভ স্মরণে ও নারীশক্তির প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানাতে আজও প্রথা মেনে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা সাগ্রহে কুমারী দেবীর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
রাজধানীর গোপীবাগে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনে সূর্যোদয়ের আগেই দেবীর মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিশেষ বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নির্দিষ্ট শুভলগ্নে মণ্ডপের পবিত্র আসনে অধিষ্ঠিত করা হয় নির্বাচিত কুমারীকে। এরপর পঞ্চনৈবেদ্য, চন্দন, ধূপ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে চলে জাগ্রত মাতৃ রূপের ভক্তিমূলক আরাধনা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দিনভর ঢাকের মন মাতানো বাদ্য, কাাঁসরের ঘণ্টা, ধূপের সুবাস আর অগণিত ভক্তের উলুধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠেছে। দেবী দর্শনে এসে পুণ্যার্থীরা পরিবার ও দেশের জন্য সার্বিক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করছেন।

