সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তবর্তী উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে রাজধানী রিয়াদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে সংঘটিত এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন তিন শতাধিক যাত্রী ও বিমানবন্দরকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকট শব্দে মিসাইলটি আঘাত হানার পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষের কারণে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয় এবং ঘটনাস্থলের দিকে একের পর এক অন্তত ১২টি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যেতে দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে শত শত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরপরই রিয়াদগামী সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়, অথবা নিকটস্থ অন্যান্য বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে আসার পূর্বে সাধারণ যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সবশেষ সময়সূচি ও অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রিয়াদে হামলার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে আরও দুই দফা হামলা চালানো হয়। সেসব হামলায় চারজন প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘাত চরম রূপ নিলেও এই সংবেদনশীল হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

