বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল তৎকালীন ছাত্রলীগের রাজনৈতিক আদর্শ ও ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে যে কাউকে নির্যাতন করার অপসংস্কৃতি। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের ইতিহাস বিকৃত না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টটি শেয়ার করেন ফাইয়াজ। সেখানে তিনি মামলা সংক্রান্ত সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কিছু ভুল তথ্যের অবসান ঘটান। হত্যা মামলার আসামি জেমি সম্পর্কিত তথ্যের সংশোধন টেনে তিনি লেখেন, জেমি আবরারকে প্রথম আঘাত করেছিল-এমন কোনো স্বীকারোক্তি মামলার জবানবন্দিতে পাওয়া যায়নি। প্রথম দফায় যখন আবরারকে প্রহার শুরু করা হয়, তখন জেমি সেই কক্ষে উপস্থিতই ছিল না। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পালিয়ে যাওয়ায় জেমির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবীও নিযুক্ত হননি।
হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে ফাইয়াজ স্পষ্ট করে জানান, আসামিদের পরিবারের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল কিংবা কারা তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন, তা নিয়ে ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে মূল সত্য হলো, আবরারকে টার্গেট করে নির্মমভাবে হত্যার একমাত্র পেছনে ছিল ছাত্রলীগের হিংসাত্মক আইডিওলজি। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় তাদের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় ছিল-তারা ছাত্রলীগ কর্মী; অতীতে তারা কী ছিল বা বর্তমানে তারা কী সাজছে, তা মূল অপরাধকে আড়াল করতে পারে না।
পোস্টের শেষ অংশে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে অনুরোধ জানান ফাইয়াজ। তিনি লেখেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে সেটির একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত। বর্তমান ব্যবস্থার মূল ভিত্তি যাদের রক্ত ও ত্যাগ, তাদের ইতিহাসকে বিতর্কিত করা হলে সামগ্রিক অস্তিত্বই সংকটে পড়বে। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে সত্যকে বিকৃত করার অপচেষ্টা বন্ধের বার্তা দেন তিনি।

