প্রধান খবর

যুদ্ধবিরতির নামে প্রহসন : ইসরায়েলি হামলায় প্রতি ৯০ মিনিটে নিহত এক ফিলিস্তিনি

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় থেমে নেই ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিলিফ’-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হচ্ছেন। অব্যাহত প্রাণহানি, গণ-বাস্তুচ্যুতি ও তীব্র মানবিক সংকটে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন গাজাবাসী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফের হিসাব এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩২০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে-অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধাবস্থায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৫৪ ছাড়িয়েছে।

সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার অজুহাত তুলে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ জনগোষ্ঠীর এই ভূখণ্ডের অবশিষ্ট মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে অতি গাদাগাদি করে চরম অমানবিক পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে অবরুদ্ধ মানুষ। গাজায় কর্মরত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চলায় সেখানে বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রতিফলন নেই।

গাজার সার্বিক অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার চিত্র দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া প্রয়োজনীয় আশ্রয় উপকরণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি কড়া বিধিনিষেধ বহাল থাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মৌলিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে বিশ্বনেতাদের নিষ্ক্রিয়তা ঝেড়ে ফেলে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবিক সংস্থাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *