নতুন জীবনের বুকভরা আশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রলোভনে পড়ে চার দিন সাঁতরে ও বিপজ্জনক সীমানা প্রাচীর টপকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল ‘সেউতা’য় পৌঁছেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে হাজারো অভিবাসীর। ভূখণ্ডটিতে পৌঁছানোর পর তীব্র খাবার সংকট, অত্যধিক জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অধিবাসীদের বৈরী আচরণের মুখে পড়ে তাঁদের অনেকেই আবার বাধ্য হয়ে মরক্কোয় ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল’ হওয়ার ভুয়া বার্তা ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হাজার হাজার তরুণ উন্নত জীবনের আশায় সেউতার দিকে ছুটে যান। সীমান্ত পেরিয়ে তারা বুঝতে পারেন, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড স্পেনে প্রবেশের সমস্ত পথ পুরোপুরি রুদ্ধ। টানা কয়েকদিন না খেয়ে কাটাতে বাধ্য হওয়া মরক্কোর ফেজ শহরের এক অভিবাসী জানান, সামান্য একটি স্যান্ডউইচের দাম নেওয়া হচ্ছিল প্রায় ১০.৭৫ মার্কিন ডলার, যা সাধারণ কোনো অভিবাসীর পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিল। ক্ষুধা, ভেজা পোশাকে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন এবং চিকিৎসাসেবার অভাবে সেউতা তাঁদের জন্য এক উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল।
শুধু প্রাকৃতিকভাবেই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তীব্র বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে অভিবাসীদের। সেউতার স্থানীয় ‘এল প্রিন্সিপে’ এলাকায় অনেককে মারধর এবং তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তাঁদের ওপর অদৃশ্য অবরোধ সৃষ্টি করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অবশ্য স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ হাজার হাজার মানুষের আগমনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও অতঙ্ক তৈরি হওয়ায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় অভিবাসী গ্রহণ কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পূর্ণ হয়ে পড়ায় শত শত মানুষকে রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশি টহল জোরদার করেছে। কেউ কেউ নিজ দেশে ফিরে গেলেও সুদানের অধিবাসী মোহাম্মদ আহমেদের মতো অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেউতাতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও সেউতায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।

