মায়ের জন্য ছটফট করছে আখাউড়ার মাজারে ফেলে যাওয়া ৭ মাসের শিশু

যে বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী মানেই মায়ের বুকের উষ্ণতা আর নিরাপদ আশ্রয়, সেই বয়সেই হাসপাতালের একটি শয্যায় একা দিন কাটছে মাত্র সাত মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর। কান্নাভেজা চোখে অবুঝ শিশুটি যেন প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরছে নিজের গর্ভধারিণীকে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই মাজার প্রাঙ্গণে ওই ৭ মাসের ফুটফুটে ছেলে শিশুটিকে অসহায় ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং চিকিৎসার জন্য আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সার্বক্ষণিক নিবিড় তত্ত্বাবধানে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা চলছে। মায়ের ভালোবাসা বঞ্চিত শিশুটিকে এভাবে মাজারের মতো জায়গায় ফেলে রেখে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তবে হৃদয়বিদারক এই ঘটনার মাঝেও মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন আখাউড়ার স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ এবং হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা। তাঁরা শিশুটির থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার দায়িত্ব পরম মমতায় পালন করছেন। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পিতৃ-মাতৃহীন এই শিশুটিকে দত্তক নিতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাকুল আগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেকে। সন্তানহীন ও দয়ালু মানুষজন হাসপাতালে এসে শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল নার্সরা জানিয়েছেন, দত্তক প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ সরকারি আইন ও সমাজসেবা বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পন্ন করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া ও সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন, শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *