ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কড়া জবাব দিতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ‘লাল হিট জনতা পার্টি’র। সম্প্রতি দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে দলটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচালিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেন লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, এসব আন্দোলনের অজুহাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অহেতুক প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে অচল করে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
সমাবেশে লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান অয়ন ভাটনগর দাবি করেন, ভারতের গণতন্ত্র সুরক্ষা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যেই এই দলের সৃষ্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভার্চ্যুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষকে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানসিকতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে অয়ন ভাটনগর সতর্ক করে বলেন, আজ অন্যায্যভাবে সিইসির পদত্যাগ দাবি করা হলে কাল হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হবে। তবে কেবল লোকবল প্রদর্শন করে কিংবা গণজমায়েত ঘটিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৩ সালে গৃহীত সিইসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতার অংশগ্রহণ থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত একাধিক বক্তা অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টির ক্রমাগত আন্দোলনের ফলে রাজধানী দিল্লি সহ বিভিন্ন বড় বড় শহরের সাধারণ ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক পবন দাবি করেন, এসব আন্দোলনের প্রভাবে এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে, যা আগামীতে ১০ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এছাড়া নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত দেশের ঐক্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন প্রকাশের আহ্বান জানান।

