মাদকবিরোধী এক অভিযানে আত্মরক্ষার্থে পিস্তল উঁচিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তার এই সাহসী ভূমিকা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি রাশেদ খান। তবে একই সঙ্গে জনসমক্ষে এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে তাকে আরও বেশি কৌশলগত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইশরাক হোসেনকে একজন উদীয়মান ও লড়াকু তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি অতীতেও অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী চলমান ওই অভিযানে মাদকাসক্তদের আকস্মিক হামলা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। মাদকের সর্বগ্রাসী প্রভাবে মানুষ প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হতেও দ্বিধা করে না। এমন বাস্তব ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার স্বার্থে পিস্তল প্রদর্শন করাকে অমূলক বা অযৌক্তিক বলা চলে না।
তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বা সামাজিক সমালোচনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে ইশরাককে আরও সতর্ক ও কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশেদ খান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, এ ধরনের সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইশরাক হোসেন নিজেকে আরও পরিপক্ব ও আদর্শ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলবেন। এ সময় একক কোনো উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আলোচিত ওই ঘটনার পর ইশরাক হোসেন নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল আকস্মিক পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মাদক কারবারিরা যেন কোনোভাবেই পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি পদক্ষেপ নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করেন।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশেদ খান। তার মতে, প্রশাসনিক অভিযানে যথেষ্ট দুর্বলতা থাকার কারণেই আজ সাধারণ জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

