ধূপ-ধুনুচির সুবাস, পঞ্চপ্রদীপের আলো, শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে মুখরিত চারপাশ। আভা ছড়িয়ে আসনে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। দেবীর বোধন, আবাহন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতায় সারাদেশে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
সনাতন শাস্ত্র ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভক্তদের সকল কষ্ট দূর করার অভয় নিয়ে দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে আগমন করেছেন। পাঁচদিনব্যাপী এই আরাধনা শেষে বিজয়া দশমীর দিন দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। আজ ষষ্ঠী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই মূলত এই সার্বজনীন উৎসবের মূল সূচনা হলো। সারাদেশের মণ্ডপে মণ্ডপে এখন দেবী দর্শনের আকুল প্রতীক্ষা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি মন্দির চত্বর ও মণ্ডপে লেগেছে রঙিন সাজের ছোঁয়া। প্রতিমার নান্দনিক সাজসজ্জা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ আর সম্প্রীতির বার্তা। পূজা যেন শান্তিপূর্ণ, সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রেখে এবং আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সারাদেশে উৎসবের ব্যপ্তি এবার আরও বেড়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। এর মধ্যে কেবল রাজধানী ঢাকা মহানগরেই ২৫৮টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে এই পূজা। মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম সামলাতে প্রস্তুত স্বেচ্ছাসেবক দল।
এদিকে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে টানা পাঁচদিনের দীর্ঘ ছুটি। আগামী ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে সরকারি নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর সাধারণ ছুটি থাকবে। পাশাপাশি ২২ অক্টোবরও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির আনন্দে ভাসবে পুরো দেশ। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই আনন্দযজ্ঞের।

