মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি ও নৃশংস বন্দুক হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর ৪৫ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারী নিজেও নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইরি শহরের পুলিশ বিভাগ গত শুক্রবার সন্ধ্যার এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পুরো বিবরণ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে ইরি পুলিশ প্রধান রিক লোরাহ জানান, হামলাকারীর নির্দিষ্ট পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজনই সরাসরি হামলাকারীর আত্মীয় এবং অপরজন তাদেরই এক পারিবারিক বন্ধু। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজেই অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, পেরি স্ট্রিটের একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে ঘরের ভেতরে এই রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব চালান ওই ব্যক্তি। এরপর ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আরও দুই নারীকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালান তিনি। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীদের সাহায্য চাইতে গেলে ওই দুই নারী পথেই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়িটির দ্বিতীয় তলা থেকে অভিযুক্ত বন্দুকধারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এই ঘটনাটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কিছু দৃশ্য এতটাই লোমহর্ষক হয় যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরও তা দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকে; এটি তেমনই এক হৃদয়বিদারক তাণ্ডব। তবে পরিবারের সদস্যদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানোর পেছনের আসল উদ্দেশ্য বা কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শহরটির মেয়র দারিয়া ডেভলিন এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের অসীম সাহস ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবার এবং পুরো ইরি সম্প্রদায়ের জন্য এই ক্ষতি সম্পূর্ণ অপূরণীয়। অপরদিকে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক শোকবার্তায় মেয়র ডেভলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং অনুমোদনহীন ‘ঘোস্ট গান’-এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।
অলাভজনক গবেষণা সংস্থা ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত চার শতাধিক বড় ধরনের গণগুলিবর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে পেনসিলভানিয়ায় সর্বশেষ গত জুলাই মাসে ফিলাডেলফিয়ায় এ ধরনের মর্মান্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল।

