ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বর্বরোচিত বোমা হামলায় হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ রেজা রাদান। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রদেশের জাহেদান শহরের কাছে চেশমে জিয়ারাত গ্রামে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই নারী কর্মকর্তা এবং গুরুতর আহত হন পুলিশের আরও কয়েকজন সদস্য।
নিহত সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার নাম নুসরাত এফতেখারি। তিনি সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের পুলিশ কমান্ডের সাংস্কৃতিক ও সামাজিকবিষয়ক উপপ্রধানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার তাঁর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা দেন ইরানের পুলিশপ্রধান রাদান। শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা, অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা সরাসরি শুনতে চেশমে জিয়ারাত গ্রামে গিয়েছিলেন এফতেখারি। সেখান থেকে ফেরার পথেই কাপুরুষোচিত এই হামলার শিকার হন তিনি।
জনসেবায় নুসরাত এফতেখারির অতুলনীয় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার উচ্চ প্রশংসা করে রাদান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় নারী ও পুরুষ-উভয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যকেই প্রায়শই জীবন বাজি রেখে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এফতেখারির এই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নারী সদস্যদের অনন্য অবদানের বিষয়টি আবারও বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে একটি পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে কতৃপক্ষ। এই হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা এফতেখারির প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। তবে এই জঘন্য হামলার পেছনে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্র সরাসরি জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শোকবার্তার শেষাংশে ইরানের পুলিশপ্রধান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন যে, বীর পুলিশ কর্মকর্তা নুসরাত এফতেখারি এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার লড়াইয়ে প্রাণ হারানো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মীদের রক্তের বিন্দুমাত্র হিসাবও ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সর্বত্র স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা যেকোনো মূলل অব্যাহত রাখার অবিচল অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

