ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বৃহৎ বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন পুরো রাজধানী জুড়েই জারি করেছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে সিজেপি-র ডাকা এই প্রতিবাদ সমাবেশ ভেস্তে দিতে রাজধানীজুড়ে কয়েক হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা ছাড়াও বহু মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। তবে পুলিশি বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তর, মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ এলাকা এবং প্রধান প্রধান বাজারের সামনে বিক্ষোভকারীরা একজোট হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে ধাওয়া করে এবং অনেককে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েই এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত। বিরোধীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কৌশলগতভাবে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন দলকে বাড়তি সুবিধা প্রদান করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এই অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে স্পষ্ট করেছে যে, প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
আটক হওয়া বিরোধী নেতারা ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘কর্তৃত্ববাদী দমনপীড়ন’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নয়া দিল্লির সমস্ত প্রধান প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে কড়া তল্লাশি চালানে হলেও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

