প্রধান খবর

‘হাসনাতরা আগে চড়তো সাইকেলে, গণঅভ্যুত্থানের পর চড়ে প্রাডো গাড়িতে’

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস প্রার্থী ও ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। হাসনাতদের আর্থিক লেনদেন ও সাম্প্রতিক কর্মসূচিকে ‘নতুন ধান্দা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের যাচাইকৃত (ভেরিফায়েড) ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে এই তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য তুলে ধরেন হামিম। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাঁর সঙ্গীদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তিনি অভিযোগ করে লেখেন, আগে যাদের পায়ে সাধারণ চটি স্যান্ডেল শোভা পেত, তাদের এখন ব্র্যান্ডের দামি জুতো পরতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ সিম্ফনি ব্র্যান্ডের চালচুলোহীন মোবাইল ফোন সেট ব্যবহারের জায়গায় এখন তাদের হাতে চলে এসেছে কোটি টাকার আইফোন প্রো-ম্যাক্স।

ছাত্রদলের এই প্যানেল প্রতিনিধি আরও দাবি করেন, ক্যাম্পাসে যারা কিছুদিন আগেও সাধারণ ফিনিক্স সাইকেলে যাতায়াত করতেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদেরকে একেকজন বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি চড়তে দেখা গেছে। পূর্বে বন্যার্তদের জন্য সংগৃহীত অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ এনে তিনি লেখেন, আগে মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত ত্রাণের টাকা আত্মসাতের পর এবার তাঁরা প্রকাশ্যে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ কর্মসূচির নামে মাঠ গরম করতে নেমেছেন।

হামিম তাঁর ফেসবুক পোস্টে সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে টাকা প্রদান না করার জোর আহ্বান জানান। জনগণের কয়েক হাজার টাকা তোলার আড়ালে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত কথিত ‘কালো টাকা’ সাদা দেখানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *