নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় ভাড়া বাসার মালিকের মাত্র সাড়ে আট বছর বয়সী অবোধ শিশু সন্তান বায়েজিদ বিন মাহমুদের ডান হাতের আঙুল ধারালো বটি দিয়ে কেটে দেওয়ার রোমহর্ষক ও নৃশংস অভিযোগে নাটোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী নাছরিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় হরিশপুর এলাকার চেয়ারম্যান রোডের বাসা থেকে আসামি দম্পতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বড় হরিশপুর এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বাসায় ভাড়া থাকতেন পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন। গত বুধবার শাকিলের শিশুকন্যার সাথে বাড়ির মালিকের শিশু বায়েজিদের খেলাধুলা করাকে কেন্দ্র করে শিশুসুলভ বিবাদ তৈরি হলে স্বজনেরা তা তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে শাকিল শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। অভিযোগ ওঠে, শাকিল ও তাঁর স্ত্রী নাছরিন মিলে ধারালো বটি দিয়ে শিশু বায়েজিদের ডান হাতের একটি আঙুল নৃশংসভাবে কেটে ফেলেন।
আহত শিশুর আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

