লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, চন্দ্রগঞ্জ ও রামগঞ্জ উপজেলায় পৃথক চার শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার তিন দিন গড়িয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী ও ১ শিশুকন্যার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্বজনদের আহাজারি আর সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুল প্রার্থনায় দিন কাটছে চার পরিবারের।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ইয়াকুব আলী হাজী বাড়ির ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের ছেলে আরাফাত সায়েম (১৪)। সে স্থানীয় রায়পুর এলএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই দিন একই উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের প্রবাসী এমরান হোসেনের ছেলে ও রায়পুর আলিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইকরামুল হাসান মিনহাজ (১৪) নিখোঁজ হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তারা দুজন আর ফেরেনি।
অন্যদিকে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর এলাকা থেকে লুবনা আক্তার নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যা খেলার ছলে নিখোঁজ হয়। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একই দিন (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রামগঞ্জ ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক ক্যাম্পাসের গেটের সামনে থেকে নিখোঁজ হয় অষ্টম শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া অরিন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে স্কুল গেট থেকে সে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে।
পৃথক চার শিশু ও শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় তাদের স্ব স্ব উপজেলার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ শিশু ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক দল সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করছে।

