শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা: মরদেহ উদ্ধারের ৭ দিন পর কাটা পায়ের খোঁজে ডোবায় তল্লাশি

পাবনা সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর তার নিখোঁজ দুই পায়ের খোঁজে পুনরায় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া এলাকায় শিশুর মরদেহটি উদ্ধার হওয়া স্থান ও পার্শ্ববর্তী ডোবায় নতুন করে অভিযান চালায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

প্রাথমিকভাবে তল্লাশির বিষয়টি গোপন থাকলেও গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের তল্লাশি অভিযানের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বেনু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যেখানে বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানকার কচুরিপানা ও আশপাশের ডোবায় নিবিড় তল্লাশি চালায়। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কলির বিচ্ছিন্ন পা দুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ দাবি করেছিলেন, শিশুটিকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়নি। অথচ স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল ও স্বজনদের দাবি, লাশ দাফনের সময় শিশুটির দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ সম্পূর্ণ উধাও ছিল।

এ বিষয়ে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম বলেন, “শিশুটির স্বজনরা দাবি করেছিলেন তার পায়ের নিচের অংশে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের দাবির সত্যতা ও সন্দেহ দূর করতেই আমরা পুনরায় তল্লাশি চালিয়েছি।” তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় জানান, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে এলে কাটা পায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। দীর্ঘ ৭ দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করলেও অপর আসামি ঘটনাটি অস্বীকার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *