রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি সোমবার ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ডিবির উপকমিশনার বলেন, মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে চিকিৎসক জানান, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রংপুর নগর পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

