প্রধান খবর

আল-আকসা দখলের গভীর ষড়যন্ত্রে ইসরায়েল

জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও পবিত্র আল-আকসা মসজিদ এবং ডোম অব দ্য রককে কেন্দ্র করে আবারও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের চরমপন্থা ও উগ্র ডানপন্থি সরকারের একের পর এক পদক্ষেপে কয়েক দশক ধরে বহাল থাকা ‘স্থিতাবস্থা’ (স্ট্যাটাস কু) ভেঙে আল-আকসার ওপর কার্যত দখলদারিত্ব ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নগ্ন চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে জর্ডান। পবিত্র স্থানটির ঐতিহাসিক কাঠামো রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন ঠেকাতে তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ আরব লিগভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে আম্মানে এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জর্ডান।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই জরুরি কূটনৈতিক সম্মেলনে আল-আকসা প্রাঙ্গণের সাম্প্রতিক নাজুক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলি পদক্ষেপ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। মূলত সম্প্রতি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে হাজার হাজার উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারী কড়া পুলিশি পাহারায় আল-আকসায় প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করে। ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও ঐতিহাসিক নীতি অনুযায়ী, আল-আকসার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব জর্ডানের ইসলামিক ওয়াক্ফের অধীন এবং সেখানে অমুসলিমদের প্রবেশের নিয়ম থাকলেও ধর্মীয় উপাসনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসরায়েলি মন্ত্রীদের এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সেই চুক্তি ও স্থিতাবস্থার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে বলেছেন, “আল-আকসার বর্তমান প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক কাঠামোয় যেকোনো ধরনের আঘাত বা হস্তক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বে এক ভয়াবহ ধর্মীয় সংঘাতের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে।” উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক ইসরায়েল-জর্ডান শান্তিচুক্তিতেও আল-আকসার একক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে জর্ডানের ভূমিকার স্পষ্ট আইনি স্বীকৃতি রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার ওপর চরম হুমকি হিসেবে দেখছে আম্মান।

আল-আকসা ইস্যুতে তৈরি এই জটিলতার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক জর্ডানে বিতাড়নের ইসরায়েলি পরিকল্পনাকেও শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে জর্ডান। আয়মান সাফাদি এটিকে নিজ দেশের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমানা বলে অভিহিত করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিম তীরে আগ্রাসন, গাজা সংঘাত এবং জর্ডানের পানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেল আবিবের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে এক হয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *