বর্তমানে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এক নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে লেজার প্রযুক্তিভিত্তিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। গত মার্চ মাসের দিকে চলা যুদ্ধে ইরানের কমব্যাট ড্রোনের বিরুদ্ধে এর সীমিত ব্যবহারের দাবি করা হলেও বাস্তবে এখনো পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে এই প্রযুক্তির সরাসরি বা জড়ালো ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়নি।
তবে, একবিংশ শতাব্দীর এই অভাবনীয় লেজার ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ভারত, চীন ও তুরস্ক গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে Directed Energy Weapon (DEW) প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
আর এই জাতীয় উচ্চ প্রযুক্তির লেজার ডিফেন্স সিস্টেম ভিত্তিক ‘Iron Beam’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইল ভিত্তিক ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান Rafael Advanced Defense Systems তৈরি করেছে, যেখানে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ।
একবিংশ শতাব্দির এই “Iron Beam” আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ইসরাইলের বিদ্যমান বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে। যুদ্ধ পরীক্ষিত Iron Dome ও David’s Sling–এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে এটি আকাশ পথে আগত ড্রোন, স্বল্প পাল্লার রকেট ও মর্টার শেল প্রতিহত করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
এই সিস্টেমে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজার বিম লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র তাপ প্রয়োগ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ড্রোন বা রকেট ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিটি শটের খরচ তুলনামূলকভাবে খুবই কম হওয়ায় এটি প্রচলিত মিসাইল নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি কার্যকর ও অর্থনৈতিক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরাইল প্রাথমিকভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে Iron Beam–এর একাধিক সফল পরীক্ষা বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছিল। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এটি প্রি-অপারেশনাল বা সীমিত পরিসরে মোতায়েনের প্রস্তুতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ করে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় মোতায়েন বা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কোন তথ্য বা রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশও লেজার অস্ত্র নিয়ে কাজ করলেও, Iron Beam বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রথম কার্যকর ও বাস্তব ব্যবহারের কাছাকাছি লেজারভিত্তিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়, যদিও এটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে।

