প্রধান খবর

ইতিহাসে প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে নয়াদিল্লি

ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশটি ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি বলে উল্লেখ করেছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসআইপিআরআইয়ের সর্বশেষ রিপোর্ট উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানানো হয়।

এসআইপিআরআই জানায়, এতদিন ভারত পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থা আলাদা করে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভারতের অস্ত্রাগারকে মজুত নয়, বরং কার্যক্রমের জন্য মোতায়েনকৃত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় ওয়ারহেড রাখা এটি উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১২টি ওয়ারহেড হয় লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, নয়তো সক্রিয় বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে।

গত বছর ভারত অল্প সংখ্যক ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে (এসএসবিএন) মোতায়েন করে প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা শুরু করে। পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতও সামান্য বেড়েছে। এসআইপিআরআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০টি, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএসবিএন এই তিন বাহনব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত ত্রিমাত্রিক প্রতিরোধ কাঠামোর অংশ।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালীন সময়ে ভারত পারমাণবিক অস্ত্র লঞ্চার থেকে আলাদা করে রাখে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ক্যানিস্টারে রাখা এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল জোরদার করার পদক্ষেপ দেখে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভারত শান্তিকালীন সময়েই কিছু ওয়ারহেড লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে এগোচ্ছে।

ভারত এখনো ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে। অর্থাৎ ভারত প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না; কেবল ভারতীয় ভূখণ্ড বা বাহিনীর ওপর পারমাণবিক আক্রমণের জবাবেই এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। ভারতের পারমাণবিক ভাণ্ডার সীমিত হলেও কার্যকর যা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *