প্রধান খবর

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৫

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন । এই হামলায় শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও বহু বেসামরিক নাগরিক। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার জবাবেই মস্কো এই পাল্টা ও তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে।

স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের চুগুইভ শহরে গভীর রাতে রাশিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং আরও একজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। হামলায় ওই এলাকার বেশ কিছু বহুতল ভবন ও দোকানপাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, খারকিভ মূল শহরে চালানো পৃথক ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অপরদিকে, দোনেৎস্কের আঞ্চলিক প্রধান ভাদিম ফিলাশকিন জানান, সোমবার বিলোজেরস্কে ও দ্রুঝকিভকায় রুশ গোলার্ধ্বষণে দুজন নিহত হয়েছেন এবং স্লোভিয়ানস্কসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও ১১ জন আহত হন।

এই চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সাথে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ফোনালাপ হয়েছে। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে থমকে থাকা আন্তর্জাতিক কূটনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। বিশ্বরাজনীতির মনোযোগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য বা ইরানের দিকে থাকলেও, ইউরোপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই যে তাদের প্রধান লক্ষ্য, তা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

লন্ডন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে পৃথক বৈঠক করেন জেলেনস্কি। তিন শীর্ষ ইউরোপীয় নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রতি তাদের ‘অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, আগামী জি৭ এবং ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, “পুতিনের চারপাশে থাকা কর্মকর্তাদের অর্ধেক এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় এবং বাকি অর্ধেক এটি থামাতে চায়।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি পুতিনকে একটি চিঠি পাঠালেও সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। পুতিন জানান, এই মুহূর্তে সরাসরি বৈঠকের কোনো কার্যকারিতা নেই; প্রথমে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি সমাধান করবেন এবং পরবর্তীতে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *