যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত খাতে কাজের সুযোগ পেতে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এইচ-১বি ভিসা। ন্যূনতম ব্যাচেলর বা সমমানের ডিগ্রি থাকা যোগ্য ব্যক্তিরা এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির আবেদন করতে পারেন। ভিসার মেয়াদ তিন বছর, পরে আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানো যায়, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বৈধতা থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে এই ভিসার ওপর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা দেন। তার দাবি ছিল, মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ কর্মী আনছে, ফলে স্থানীয় নাগরিকরা চাকরির সুযোগ হারাচ্ছেন। তাই ভিসার ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কমানোই ছিল তার উদ্দেশ্য।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই নিয়মকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। বিচারক লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, অভিবাসন নীতিতে এমন পরিবর্তন আনার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নয় এটি কেবল কংগ্রেসের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ফি মূলত একটি ট্যাক্স, আর প্রেসিডেন্টের কোনো ট্যাক্স আরোপের ক্ষমতা নেই।
৪২ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক স্পষ্ট করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ কর্মী আনার জন্য এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করছে। এই প্রক্রিয়ায় হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফি আরোপ করা আইনসঙ্গত নয়। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক স্টেটগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা গত ডিসেম্বরেই আদালতে যান, এবং শেষ পর্যন্ত আদালত তাদের পক্ষে রায় দেয়।
এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী কোম্পানি এবং বিদেশি পেশাজীবীরা বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছেন।

