ব্যভিচার এবং মানহানির মামলা থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও উভয় পক্ষের আইনি লড়াই শেষে আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার নির্ধারিত সময়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ থেকে তাঁদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি (খালাস) দেন।
এর আগে, বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে স্ত্রী তামিমার হাত ধরে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে আদালতের এজলাসে উপস্থিত হন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন। তারকা এই দম্পতির আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিচারক জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের খালাসের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাকিবের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই তামিমা কোনো আইনগত তালাক ছাড়াই ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন। একই সাথে নাসির হোসাইন তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়, যা দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যভিচার ও মানহানির শামিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বাদী রাকিব হাসানের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন বলে দাবি করেন।
মামলার শুনানিতে রাকিব হাসান ও তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, এই ঘটনার কারণে বাদীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে মারাত্মক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সমাজে তাঁর মান-মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অপরদিকে, নাসিরের আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মামলাটিতে বাদী পক্ষসহ মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। এরপর উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতের এই খালাসের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা নাসির-তামিমার আইনি ও সামাজিক বিতর্কের অবসান ঘটল ।

