প্রধান খবর

সিডনিতে ‘Change the Story’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত: নারীদের সুরক্ষায় পুরুষদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান গার্হস্থ্য সহিংসতা (ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স) প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুরুষদের ইতিবাচক ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে সিডনিতে “Change the Story: Men’s Voice for Women’s Safety” শীর্ষক একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ জুন সোমবার ল্যাকেম্বা সিনিয়র সিটিজেন ক্লাবে এই ব্যতিক্রমী কর্মশালার আয়োজন করে অলাভজনক সংস্থা কালচারাল ডাইভার্সিটি ইনক (CDNI)। অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০ জন বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নেন। ওয়ার্কশপটির আর্থিক সহযোগিতায় ছিল ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (VAAUS)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন CDNI-এর সভাপতি ডা. সাবরিন ফারুকী OAM। এরপর বিশিষ্ট জেরিয়াট্রিশিয়ান ও সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. ইশরাত জাহানের নিখুঁত তত্ত্বাবধানে ওয়ার্কশপের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে গার্হস্থ্য সহিংসতার বিভিন্ন রূপ ও দিক নিয়ে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিটি দলের মতামত ও পর্যবেক্ষণ একত্রিত করে উপস্থাপন করা হলে সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করার সম্ভাব্য উপায়গুলো উঠে আসে।

আলোচনায় বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, সঠিক বোঝাপড়ার অভাব ও সামাজিক অসচেতনতাই এই সংকট মোকাবিলায় প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মশালায় বিশিষ্ট আইনজীবী চন্দ্রিকা সুব্রামানিয়াম ও কামেলা খান গার্হস্থ্য সহিংসতার বিভিন্ন রূপ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়সমূহ অত্যন্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। তারা উল্লেখ করেন, গার্হস্থ্য সহিংসতা কেবল শারীরিক নির্যাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানসিক ও মৌখিক আক্রমণ, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার সহিংসতাও এর গুরুতর অংশ। এছাড়া কানিতা আহমেদ ‘মাইন্ডফুলনেস’ বিষয়ক একটি হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য দেন, যা উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিভিন্ন পেশা ও বয়সের বিপুল সংখ্যক পুরুষের সক্রিয় উপস্থিতি। তারা কেবল শ্রোতা হিসেবেই নয়, বরং দলগত আলোচনার ফ্যাসিলিটেটর হিসেবেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নারীদের সুরক্ষায় পুরুষদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে VAAUS-এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডা. মাহবুবা খানম ও ডা. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান। এছাড়া লিন্ডা সান, জ্যাকুলিন উইলিয়ামস এবং সাদিয়া তাবাসসুম বিভিন্ন সামাজিক সাপোর্ট সার্ভিস সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে ওয়েন প্রায়র বলেন, এই কর্মশালা থেকে পুরুষদের দায়িত্বশীল ভূমিকা সম্পর্কে তিনি নতুন দৃষ্টিকোণ লাভ করেছেন। পরিশেষে ডা. সাবরিন ফারুকী পরবর্তী ওয়ার্কশপের তারিখ ঘোষণা করার পর একটি সৌজন্য নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *