বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনেরগুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সামরিক সংঘাতের জেরে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়ে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। একই সাথে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে আগামীতে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরও মারাত্মক ও কঠোর আঘাত হানা হবে।
উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার, যখন হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে যায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে তাদের সেই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল জাস্ক, কিশ ও সিরিক লক্ষ্য করে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিনীদের এই বিমান হামলায় সিরিক এলাকায় তাদের একটি সামরিক যোগাযোগ টাওয়ার এবং দুটি পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘মিথ্যা অজুহাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। এর জবাবেই মূলত পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ঘাঁটিটি এর আগেও গত ফেব্রুয়ারি মাসের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের বাহিনীর বড় ধরনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে যে, ওয়াশিংটনকে তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং বেআইনি সামরিক অভিযান থেকে সরে আসতে হবে, অন্যথায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। বর্তমানে বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানার চেষ্টা চলছে এবং ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

