দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোনের নীল আলোকে ঘুমের প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল স্ক্রিনের আলো নয়, বরং শোবার আগে ব্যবহারকারীর আচরণ ও কনটেন্ট ভোগের ধরনই ঘুম ব্যাহত হওয়ার বড় কারণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের চোখের ‘মেলানোপসিন’ নামক প্রোটিন নীল আলোর প্রতি সংবেদনশীল হলেও স্মার্টফোন থেকে নির্গত আলো ঘুমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো শক্তিশালী নয়। Stanford University-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Jamie Zeitzer-এর মতে, ল্যাবভিত্তিক গবেষণার ফল বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
একাধিক গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফোনের নীল আলো ঘুমের সময় গড়ে মাত্র কয়েক মিনিট বিলম্ব ঘটাতে পারে। তুলনামূলকভাবে, প্রাকৃতিক সূর্যালোকের প্রভাব অনেক বেশি। এমনকি মেঘলা দিনেও বাইরের আলোর তীব্রতা স্মার্টফোনের আলোর চেয়ে বহু গুণ বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল সমস্যা হলো শোবার আগে ফোনে কী দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করা বা উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও দেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। অর্থাৎ আলো নয়, বরং মানসিক উদ্দীপনাই এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
ঘুমের মান উন্নত করতে গবেষকরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত আলো গ্রহণ, বিকেলে বাইরে সময় কাটানো এবং রাতে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে আনা। এতে শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা Circadian Rhythm সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, নীল আলোকে একমাত্র দায়ী না করে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও ঘুমের আগে অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি।

