কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন, তরলের ভারসাম্য রক্ষা এবং বর্জ্য অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই কিডনির প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্রস্রাবের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করাই এর সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে ধরা হয়। নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক সীমার মধ্যে আছে কি না তা লক্ষ্য করলে কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
এই পদ্ধতিতে সাধারণত ১০ ঘণ্টার একটি সময় বেছে নিয়ে একটি পরিষ্কার পাত্রে প্রস্রাব সংগ্রহ করে মোট পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এরপর এটি শরীরের ওজন অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতি ঘণ্টায় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। এই হিসাবে ১০ ঘণ্টার মোট প্রস্রাবের একটি নির্ধারিত সীমা থাকে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পা ফোলা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, প্রস্রাবে পরিবর্তন বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে বসে এই পদ্ধতি কেবলমাত্র প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। কিডনির সঠিক অবস্থা জানতে সিরাম ক্রিয়েটিনিন বা অন্যান্য ল্যাব টেস্টের বিকল্প নেই।

