বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফ যেন রূপ নিয়েছিল ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায়। নীল-সাদা পতাকা, মেসির জার্সি, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে আয়োজিত বাইক শোডাউন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে সীমান্ত শহরটিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। অংশ নেওয়া মোটরসাইকেলগুলো সাজানো হয় আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা, ফুটবল-থিমের ব্যানার এবং রঙিন আলোকসজ্জায়। শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত গন্তব্যে গিয়ে শেষ হয়।
পুরো পথজুড়ে মোটরসাইকেলের বহর, হর্ন, স্লোগান আর সমর্থকদের উদ্যাপনে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পথচারীরাও উপভোগ করেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, টেকনাফে ফুটবলকে কেন্দ্র করে এর আগে ছোটখাটো আয়োজন হলেও এত বড় পরিসরে সমর্থকদের অংশগ্রহণ খুব কমই দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বাইক শোডাউন শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। কক্সবাজারের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইফতি ও তার দল সংগীত পরিবেশন করেন। বাংলা জনপ্রিয় গান ও দর্শকপ্রিয় পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীরা মেতে ওঠেন আনন্দে। কেউ মোবাইলে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন।
আয়োজকদের একজন হেলাল উদ্দিন বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তার ভাষায়, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, আর এই খেলাকে ঘিরে তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন আয়োজন বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে দেবে।

