মানুষের মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে ঘিরে থাকা সূক্ষ্ম টিস্যুর স্তরকে মেনিনজেস বলা হয়। এই আবরণে সংক্রমণজনিত প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে মেনিনজাইটিস বলা হয়। এটি একটি গুরুতর এবং কখনো কখনো প্রাণঘাতী রোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনিনজাইটিস মূলত অণুজীবের সংক্রমণের কারণে হয়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বা পরজীবী সব ধরনের জীবাণুই এ রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিস বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসার, লুপাস, মাথায় আঘাত বা অস্ত্রোপচারের কারণেও অসংক্রামক মেনিনজাইটিস হতে পারে।
রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি, বমি ভাব, আলোতে তাকাতে অসুবিধা, খিঁচুনি, অতিরিক্ত ঘুমভাব ও অচেতনতা এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা, ব্লাড কালচার এবং মস্তিষ্কের তরল (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন হলে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মেনিনজাইটিস প্রাণঘাতী হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিরাপথে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়। ভাইরাল মেনিনজাইটিস তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন। ফাঙ্গাল সংক্রমণে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

