প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে ইসলামের আলোকে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তীব্র দাবদাহ শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি মানুষের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা যেখানে ধৈর্য, সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হাদিসের আলোকে জানা যায়, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা। মহানবী প্রবিত্র মুহাম্মদ (সা.) গরমের সময় উম্মতের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো কাজের সময় পরিবর্তন করে দুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে চলা এবং জোহরের নামাজ কিছুটা বিলম্বে আদায় করা, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়।
এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত গোসল করা, অতিরিক্ত গরমে মাথায় পানি দেওয়া এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভ্যাস শুধু শারীরিক স্বস্তিই দেয় না, বরং অন্যদের জন্যও পরিবেশকে আরামদায়ক করে তোলে।
আধ্যাত্মিক দিক থেকেও গরমের সময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি কামনায় দোয়া করা, আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা এবং নিয়মিত ইস্তিগফার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তীব্র গরম মোকাবিলায় ইসলাম শুধু আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনাই দেয় না, বরং বাস্তব জীবনের জন্য কার্যকর ও মানবিক সমাধানও প্রদান করে।

