ভারত মহাসাগরে ইরানের অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞাধীন একটি ট্যাংকারের চলাচলে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড শুক্রবার এক পোস্টে জানায়, ‘ডাভিনা’ নামের এই সুপার ট্যাংকারটি কোনো দেশের পতাকা ছাড়াই চলছিল এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
মার্কিন বাহিনী জানায়, অবৈধ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং ইরানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা দেওয়া নৌযানগুলোকে থামাতে তারা বৈশ্বিক সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের অভিযান চালিয়ে যাবে। তাদের ভাষায়, যেখানে এসব নৌযান কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেখানেই তাদের বাধা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘ডাভিনা’ ট্যাংকারটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, কারণ এটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল পরিবহনে সক্ষম এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে নিয়মিত চলাচল করছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়, ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনীও হরমুজে ইরানের বন্দরগুলোয় নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। উদ্দেশ্য-ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

