স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের পেছনে শুধু অতিরিক্ত ওজনই নয়, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নীরব প্রদাহ ধীরে ধীরে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের ফলে যকৃতে চর্বি জমতে শুরু করে। এর ফলে ফ্যাটি লিভার তৈরি হয় এবং শরীরে প্রদাহজনক রাসায়নিক সংকেতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে ধমনীতে প্লাক জমার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শাক-সবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার শরীরের বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত হাঁটাসহ দৈনন্দিন কিছু ইতিবাচক অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে।

